বাংলাদেশ অনলাইন ডেস্ক : | বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত দায়ের হওয়া ৯৮টি মামলায় দেশে-বিদেশে মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করার তথ্য দিয়েছে দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বিএফআইইউর গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কার্যক্রম তুলে ধরে বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, অর্থপাচারের ১১টি যৌথ তদন্তের ঘটনায় আদালতের আদেশে ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে আছে ৫৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশে ১৯ হাজার কোটি টাকা।
পাচার হওয়া অর্থ ফেরত প্রক্রিয়া চলমান আছে, আশা প্রকাশ করছি এ বছরের শেষের দিকে দেশবাসীকে একটা সুসংবাদ দিতে পারবো জানিয়ে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, অর্থপাচারের ঘটনা তদন্ত কার্যক্রমে গতি আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারসহ ১০টি গ্রুপকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। রাষ্ট্রের অন্যান্য সংগঠন মিলিয়ে গঠন করা হয় ১১টি যৌথ তদন্ত কমিটি। এই ১১টি ঘটনার তদন্তে এখন পর্যন্ত ৯৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।
সার্বিক কার্যক্রমের বিষয়ে বিএফআইইউয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক রিপোর্ট পায় আর্থিক খাত থেকে। এর মধ্যে সন্দেহজনক লেনদেন হচ্ছে ২০ হাজার ৫২৪টি। আর সন্দেহজনক কার্যক্রমে অর্থব্যবহারের ঘটনা সনাক্ত হয় ৯ হাজার ৬৭৫টি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সন্দেহজনক রিপোর্ট আসে ১৭ হাজার ৩৪৫টি। এক বছরে সন্দেহজনক রিপোর্ট বেড়েছে ১২ হাজার ৮৫৪টি।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন দাখিলে দেশের ব্যাংকিং খাতই সবচেয়ে এগিয়ে। গত তিন অর্থবছরে প্রতিবেদনের ৯০ শতাংশেরও বেশি এসেছে ব্যাংকগুলো থেকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ হার ছিল ৯১ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ২৮ হাজার ৭৫৫টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ১৫ হাজার ৯৯১টির তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি।
Posted ৬:৩৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh